উবুন্টুর মুশকিল আসানঃ উবুন্টুর সব ঝামেলার বাংলা সমাধান

প্রথমেই একটা কথা বলে নেই, এই লেখাটা একইসাথে বিজ্ঞাপনধর্মী এবং আবেদনধর্মী। আপনি যদি বিজ্ঞাপনকে অতিশয় ঘৃণা করেন তবে আমরা দুঃখিত এই বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য, তারপরও অনুরোধ করবো সামান্য সময় নষ্ট করে একটু কষ্ট করে পড়ুন। আর যদি বিজ্ঞাপনের ফ্যান হন তাহলেও আমরা দুঃখিত, কারন এইটা আমাদের লেখা জীবনের প্রথম বিজ্ঞাপন (জীবনের প্রথম আবিষ্কারে বিজ্ঞানী এডিসনও হোঁচট খেয়েছেন, আর আমরাতো গোনাতেই পড়িনা), তাই এই লেখায় আহামরি কিছু পাবেননা, তারপরও একই অনুরোধ করবো যে সামান্য সময় নষ্ট করে একটু কষ্ট করে পড়ুন। এখন আসুন কেন আমরা একে বিজ্ঞাপনধর্মী এবং আবেদনধর্মী বললাম। এই লেখাটা বিজ্ঞাপনধর্মী তাদের জন্য যারা “উবুন্টু” শব্দটার সাথে পরিচিত না। আর “আবেদনধর্মী” তাদের জন্য যারা “উবুন্টু ব্যবহারকারি”। আপনি যদি প্রথমভাগে পড়েন অর্থাৎ যদি আপনি একজন উবুন্টু ইউজার হন তবে ইচ্ছা করলে এই লেখাটার প্রথমভাগকে উপেক্ষা করে সরাসরি দ্বিতীয়ভাগে যেতে পারেন, তবে না যেতেই পরামর্শ দেব। আর যদি দ্বিতীয় ভাগে পড়েন অর্থাৎ উবুন্টু কি তা জানেননা তবে প্রথম ভাগটা অবশ্যই পড়বেন কিন্তু।

প্রথম ভাগঃ
উবুন্টু হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা লিনাক্স ডিস্ট্র। লিনাক্স নিয়ে আমাদের সবারই একটা ভুল ধারনা যে এটি অতি কঠিন জিনিস। অস্বীকার করবনা, এককালে এটা অপারেট করা আমার আপনার মত সাধারন মানুষের কম্ম ছিলনা, কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। লিনাক্সকে ভিত্তি করে গড়ে উঠা উবুন্টু নামের এই অপারেটিং সিস্টেমটি লিনাক্সের কঠিন ভাবমূর্তিকে একেবারে দূর করে দিয়ে সাধারনের ব্যবহারের উপযোগী করে ফেলেছে। এটি দিয়ে অফিসের (লেখালেখি, হিসেবনিকেশ, প্রেজেনটেশন) কাজ কর্ম, গান শোনা, ভিডিও দেখা, গেম খেলা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, আঁকাআঁকি করা – সবই করতে পারবেন। বোনাস হিসেবে পাবেন ভাইরাস, স্পাইওয়ার, এডওয়ার ইত্যাদি হাবিজাবি মেজাজ খারাপ করা জিনিস থেকে মুক্ত থাকার আনন্দ! সবচেয়ে বড় কথা হল, এই উবুন্টু একেবারে ফ্রি। এইবার একটু আঁতলামি কথাবার্তা, কিন্তু কথাবার্তাগুলো চিন্তার বিষয়। আমরা যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করি বাংলাদেশে সেগুলোকে ইংলিশে বলা হয় “পাইরেটেড সিডি” বা বাংলায় যেটাকে বলা হয় “চোরাই সিডি”। সোজা কথায় আমরা চুরি করা জিনিস ব্যবহার করছি। অন্যদিকে উবুন্টু হচ্ছে একদমই মাগনা এবং সেটা বৈধভাবেই। তাই এটা ব্যবহার করলে কেউ আমাকে চোরও বলবেনা। তাছাড়া উবুন্টু হচ্ছে লিনাক্সবেজড অপারেটিং সিস্টেম অর্থাৎ যে স্ট্যাবিলিটি আর পার্ফরম্যান্সের জন্য লিনাক্স আজ বিশ্বের সিংহভাগ সুপার কম্পিউটার আর সার্ভারে ব্যবহার করা হয় সেই স্ট্যাবিলিটি আর পার্ফরম্যান্সকে পাচ্ছেন আপনার ডেস্কটপে। সত্যিকারের এক অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে উবুন্টু।

এই উবুন্টুকে নিয়েই আমরা একটা ব্লগ খুলেছি, যেখানে বাংলায় উবুন্টু নিয়ে সবরকম কথা বার্তা হবে। ব্লগটির নাম উবুন্টুর মুশকিল আসান। তাই আপনি যদি উবুন্টুর জগতে নতুন হন বা উবুন্টুর জগতে যোগ দিতে চান তবে অবশ্যই একটু ঘুরে যান ব্লগটি থেকে।

দ্বিতীয় ভাগঃ

আপনি যদি উবুন্টু ব্যবহারকারি হন তবে উবুন্টুর মুশকিল আসান ব্লগটিতে আপনাকে স্বাগতম জানাই। বাংলাদেশের বেশিরভাগ উবুন্টু ব্যবহারকারিই কিন্তু উইন্ডোজ থেকেই আসে। তাই নতুন একটা সিস্টেমে এসে সমস্যায় পড়াটাই স্বাভাবিক। একজন উইন্ডোজ ব্যবহারকারি যেমন তার আশপাশে অনেক উইন্ডোজ ব্যবহারকারি পায় যে কোন সমস্যা সমাধান করার জন্য, উবুন্টুর ক্ষেত্রে চিত্রটা সেরকম না। যদিও ইদানিং উবুন্টু ইউজার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে তারপরও উইণ্ডোজ ব্যবহারকারিদের মত অলিতে গলিতে পাওয়া যায়না। তাছাড়া উইন্ডোজের সবসমস্যার সমাধান হিসেবে সর্বাধিক প্রচলিত পন্থা হচ্ছে উইন্ডোজ রিইন্সটলেশন। আমরা এ পদ্ধতিকে একেবারে নিরুৎসাহিত করি, কারন এটা কোন সমাধান না। মাথা ব্যাথা করলে মাথা কেটে নতুন মাথা লাগানোটা কি কোন সমাধান হয়? হয়না। তাই আমরা চাইনা উবুন্টুর কমিউনিটিও এভাবে গড়ে উঠুক। তাছাড়া সবাই যে সব কিছু জানে সেটাও তো হবার নয়। হয়তো আপনি এমন সব টিপস জানেন যেটা আবার আরেক জন জানেননা বা উল্টোটাও হতে পারে। তো সেইসব টিপস-এন্ড-ট্রিক্স জানা বা জানানোর জন্য তো একটা জায়গা দরকার। আর তার উপর সেই জায়গাটার সব যদি হয় বাংলায় তাহলে তো কথাই নাই। তাই বাংলা ভাষাভাষী সব উবুন্টু ব্যবহারকারিদের কথা মাথায় রেখেই আমরা উবুন্টু বিষয়ক একটা কমন ব্লগ করেছি।

আপনি ইচ্ছে করলেই যেকোন সমস্যার সমাধান বা উবুন্টু সম্পর্কিত বিভিন্ন লেখা লিখে এই ব্লগে অবদান রাখতে পারেন। বিস্তারিত পাবেনএখানে। হতে পারে লেখাটি আগে বিভিন্ন ফোরামে অথবা সাইটে প্রকাশিত হয়েছে, অথবা হতে পারে আপনার স্বকীয় কোন লেখনী। যেটাই হোক, আপনি তথ্যসূত্র উল্লেখ করে উবুন্টু/লিনাক্স সম্পর্কিত যেকোন লেখা এখানে প্রকাশ করতে পারেন। এতে করে সাধারণ অনেক উবুন্টু ব্যবহারকারিরাই উপকৃত হবে।

তাহলে আর কথা বাড়াচ্ছিনা। ব্লগটার একটা ফাইনাল এ্যাড দিয়ে শেষ করছি এই লেখাটা। উবুন্টুর মুশকিল আসান ব্লগে আপনার সাথে দেখা হচ্ছে তাহলে!

ফাইনাল এ্যাডঃ
আপনি উবুন্টুকে জানতে চান?
উবুন্টুতে আসতে চাচ্ছেন কিন্তু ভয়ে আসতে পারছেন না?
আপনি উবুন্টুতে সমস্যায় পড়েছেন?
আপনার উবুন্টু সম্পর্কিত জ্ঞান কারো সাথে শেয়ার করতে পারছেন না?
তাহলে আপনার জন্যই রয়েছে “উবুন্টুর মুশকিল আসান”।
এটি সম্পুর্ন রঙ্গীন এবং বাংলা ভাষায় ইউনিকোড সমর্থিত উবুন্টু বিষয়ক ব্লগ!
আপনি আসুন। আপনার বন্ধুদেরও আসতে বলুন।

লিখেছেনঃ অভ্রনীল

উবুন্টু লিনাক্স সম্বন্ধে পোস্ট সমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

উবুন্টু লিনাক্স সম্বন্ধে সব লেখা প্রজন্ম ফোরামআমাদের প্রযুক্তি ফোরামে প্রকাশিত। এই লেখাগুলো লেখা হয়েছে বিভিন্ন জনের সমস্যা ও তার সমাধানের পরিপ্রেক্ষিতে। এই সমাধান গুলো দিয়ে আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করেছেন স্বপ্নচারী (নাসিম ভাই), আলোকিত, শামীম ভাই, উন্মাতাল তারুণ্য, আশাবাদী, আহমাদ মুজতবা, তানিম, কারিগর, সহজ সহ আরো অনেকে। আমি শুধু সম্পাদনার দ্বায়িত্ব পালন করেছি। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যদি আপনাদের আরো কিছু জানা বা জানার থাকে তাহলে জানাতে ভুলবেন না। যদি এই সব সম্বন্ধে আরও আলোচনা জানতে চান, তাহলে প্রজন্ম ফোরাম এর ওপেন সোর্স ও বাংলা কম্পিউটিং এবং আমাদের প্রযুক্তি ফোরামের লিনাক্স সাব ফোরাম পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। সবাইকে ধন্যবাদ

লিনাক্স কেন ব্যবহার করবেন?

  • লিনাক্স একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম। এটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে এটি পয়সা দিয়ে কিনতে হবে না, যেটি করতে হয় উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এখানে যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করা হয় সেগুলোও বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সুতরাং এটি ব্যবহার করলে আমাদের সফটওয়ার পাইরেসি করতে হয় না।
  • লিনাক্স এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যেটি তৈরী হয়েছে সারা বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রোগ্রামারদের দ্বারা, যারা কোন টাকা ছাড়াই এগুলো তৈরী করছেন। লিনাক্সের জন্য কিছু স্বেচ্ছাসেবক টিম আছে, তাদের দ্বারাই এসব কাজ সম্পাদিত হচ্ছে। যেহেতু এটি তৈরী হচ্ছে অনেকগুলো কমিউনিটির সমন্বয়ে, তাই এখানে সফটওয়ারের দূর্বল স্থান কম। তাই, এসব সফটওয়ারে বাগ প্রায় নেই বললেও চলে। পক্ষান্তরে, উইন্ডোজে বাগের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে সহজেই ভাইরাস এসব দূর্বল স্থানে হামলা করে, আর আমরা ভাইরাস অ্যাটাকে পড়ি। আমাদের সিস্টেম পড়ে যায় বিশাল সব ভাইরাসের মুখে। তাই লিনাক্সে ভাইরাসের অস্তিত্ব নেই বললেও চলে।
  • এটি হচ্ছে ওপেন সোর্স। আপনি যদি একজন প্রোগ্রামার হন, তবে চাইলে এখানে আপনার পছন্দমত ফিচার যোগ-বিয়োগ করতে পারেন এবং লিনাক্স অত্যন্ত শক্তিশালী।
  • অনেকেই মনে করেন, লিনাক্সে শুধুই কমান্ড দিয়ে কাজ করতে হয়। হ্যাঁ একথাও সত্যি। তবে উবুন্টু আসার ফলে এ ধারনারও পরিবর্তন ঘটেছে। আপনি উবুন্টুতে উইন্ডোজের মত করেই কাজ করতে পারবেন। লেখালেখি করতে চান? আছে মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প ওপেন অফিস, এবি ওয়ার্ড, কে রাইট সহ ডজন খানেক ওয়ার্ড প্রসেসর। ডাটাবেস দরকার? ডাউনলোড আর ইন্সটল করে ফেলুন মাইএস কিউ এল, পোস্ট গ্রে এস কিউ এল সহ অনেক কিছু। গ্রাফিক্সের কাজ করতে চান? আছে ফটোশপের বিকল্প মুক্ত সফটওয়ার গিম্প। এই রকমভাবে একটির বিকল্প অনেকগুলো করে অপশন আছে আপনার কাছে। তাই কোন চিন্তা নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি।
  • কোন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান চালাতে চান? তাহলে লিনাক্স আপনার জন্য বেস্ট। আপনাকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে উইন্ডোজ কিনতে হবে না। লিনাক্স ব্যবহার করুন একদম ফ্রি।
  • উবুন্টু কি?

    লিনাক্সের অনেকগুলো ভার্শন আছে। যে গুলোকে বলা হয় ডিস্ট্রিবিউশন। যেমনঃ রেড হ্যাট লিনাক্স, ম্যান্ড্রিভা, ডেবিয়ান, সুসে ইত্যাদি। এ ধরনের একটি ডিস্ট্রিবিউশন হচ্ছে ঊবুন্টু। বর্তমানে এটির ৮.০৪ ভার্সন চলছে, যার নাম উবুন্টু হার্ডি হ্যারন। লিনাক্সের মাঝে উবুন্টুই হচ্ছে সবচেয়ে ব্যবহার বান্ধব ডিস্ট্রিবিউশন। উবুন্টুর আবার ৪ ধরনের ভার্সন আছে। যেমনঃ উবুন্টু, কুবুন্টু, এডুবুন্টু, এক্স-উবুন্টু।

    উবুন্টু কিভাবে ইন্সটল করবেন?

  • উবুন্টু ইন্সটল করতে হলে প্রথমেই আপনার একটি সিডির দরকার হবে। যেটাকে লাইভ সিডি বলা হয় (ইন্সটল না করেও সিডি থেকে সরাসরি অপারেটিং সিস্টেম চালানো যায়)। এটি আপনি ক্যানোনিকাল করপোরেশন থেকে ফ্রি পেতে পারেন। এজন্য আপনাকে শিপইট এর ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে আপনার ঠিকানা দিতে হবে। এক মাসের মধ্যেই আপনি আপনার সিডি পেয়ে যাবেন।
  • এটি ইন্সটল করার দুটি পদ্ধতি রয়েছে। ৮.০৪ ভার্সন আসার আগে অবশ্য একটি পদ্ধতিই ছিল। আগের পদ্ধতি, যেটা সবচেয়ে ভাল। আর বর্তমানের পদ্ধতি হল একদম নবিস ব্যবহারকারীদের জন্য। নতুন পদ্ধতিতে একটা সফটওয়ার ইন্সটল দেয়ার মত করে উবুন্টু ইন্সটল করতে পারেন।
  • উইন্ডোজের দুইটি ফাইল সিস্টেম আছে (ফ্যাট, এনটিএফএস), এই ফাইল সিস্টেমে শুধু উইন্ডোজ ই চলতে পারে। লিনাক্সের জন্য দরকার হয় ext 2/3 পার্টিশন। এই জন্য নতুন ব্যবহারকারীরা লিনাক্স ইন্সটল করতে ভয় পান এবং বুঝতে না পেরে নিজের অজান্তেই তার পুরা হার্ডডিস্ক ফরমেট করে ফেলেন।
  • এক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতিতে উইন্ডোজের ফাইল সিস্টেমের মধ্যেই ভার্চুয়াল লিনাক্স পার্টিশন তৈরী করে উবুন্টু ইন্সটল করা হয়। প্রথম পদ্ধতিতে সবাই উবুন্টু ইন্সটল করতে পারবেন। কিন্তু ভালফল পেতে হলে ২য় পদ্ধতিতে ইন্সটল করাই ভাল।
  • উবুন্টু ইন্সটল করতে হলে আপনার হার্ডডিস্কে কিছু ফাঁকা স্থান দরকার হবে। এই জন্য উইন্ডোজ থেকে কোন পার্টিশন ম্যানেজার দিয়ে হার্ডডিস্কের ৫ গিগা স্থান ফাঁকা করুন। এখন উবুন্টুর সিডি ঢুকিয়ে কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন।
  • রিস্টার্ট হলে আপনি উবুন্টুর ভাষা সিলেক্ট করার অপশন পাবেন। ইংলিশ সিলেক্ট করুন। এরপর আপনি উবুন্টুর ইউজার ইন্টারফেসে প্রবেশ করবেন।
    এখন আপনি যে ডেস্কটপ দেখছেন, সেখান থেকে ইন্সটল লেখা বাটনে ডাবল ক্লিক করে ইন্সটল এর ধাপ শুরু করুন (মোট ৭ টি ধাপ )।
  • প্রথমে ভাষা সিলেক্ট করুন বাংলা। সামনে যান
  • আপনার লোকেশন ও সময় নির্ধারন করুন। সামনে যান
  • আপনার কি-বোর্ড লে-আউট হিসেবে US সেলেক্ট করুন। সামনে যান
  • এখন পার্টিশন দেয়ার পালা। যে কোন রকম ঝুঁকি এড়াতে “পার্টিশন নিজ হাতে সম্পাদন করুন”, অথবা Manual এই অপশনটি সিলেক্ট করুন।
    এখানে উবুন্টুর পার্টিশন তৈরী করতে হবে। উবুন্টুর জন্য দুটি পার্টিশন দরকার (Ext3, Swap)। এখানে আপনার ফাঁকা করা হার্ডডিস্ক স্পেস দেখতে পাচ্ছেন (৫ গিগা) । সেটি সিলেক্ট করে ৪ গিগার একটা Ext3 পার্টিশন তৈরী করুন। মাউন্ট পয়েন্ট হিসেবে “/” দিন (স্ল্যাশ)। আর একটি পার্টিশন তৈরী করতে হবে, যার নাম Swap। বাঁকি অংশটুকু Swap স্পেসের জন্য নির্বাচন করুন। এরপর সামনে যান।
  • এখন আপনি আপনার নাম, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি পূরণ করুন। মনে রাখবেন, পাসওয়ার্ড কিন্তু দিতেই হবে। এই নাম, পাসওয়ার্ড পরবর্তিতে আপনার কাজে লাগবে।
  • কনফারমেশন করে ওকে করুন। ব্যস কাজ শেষ। এখন প্রয়োজনীয় ফাইল গুলা কপি হবে এবং ইন্সটলেশন শেষ হবে। এখন সিডি বের করে কম্পিউটার বুট করুন।
  • বুটের সময় স্ক্রীনে অপশন আসবে যে আপনি কোন অপারেটিং সিস্টেম চালাতে চান। উবুন্টুর জন্য প্রথম অপশন এবং এক্সপি এর জন্য শেষ অপশন সিলেক্ট করুন।
  • উবুন্টুতে ইন্টারনেট কানেকশান কিভাবে দেবেন?

  • এখানে আপনাদের নোকিয়া ৩১১০ সেট ব্যবহার করে কিভাবে কানেকশন দিবেন, তা দেখানো হবে। আপনি উইন্ডোজে থাকা অবস্থায় Gnome PPP (http://launchpadlibrarian.net/10692409/gnome-pppfixedforgutsy_0.3.24-1_i386.deb )সফটওয়ারটি ডাউনলোড করে নিন।
  • এরপর উবুন্টুতে ঢুকে সফটওয়ার টি ইন্সটল করুন। আপনার সেটটি ইউএসবি কেবল দিয়ে কানেক্ট করুন। এবার উবুন্টুর Applications>>Internet মেনু থেকে Gnome PPP চালু করুন।
  • Setup মেনু থেকে মডেম অংশের Detect বাটনে ক্লিক করে দেখুন মডেম খুঁজে পায় কিনা**… খুঁজে পেলে INIT Strings মেনুতে গিয়ে INIT 2 তে ডাবল ক্লিক করে at+cgdcont=,,”gpinternet” লিখে Enter চাপুন এবং উইন্ডোটি বন্ধ করুন…
  • ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড উভয় ঘরেই gp লিখে এবং ফোন নম্বর এর ঘরে *99***1# লিখে Connect বাটনে ক্লিক করুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই মডেমটি ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে যাবে এবং ইন্টারনেট ব্রাউজসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে পারবেন।
  • সুত্রঃ আলোকিত

  • যদি আপনার কোন আইএসপি’র লাইন থাকে, তাহলে সম্ভবত আপনাকে দুটি কাজ করতে হবে নেট কনফিগার করার জন্যঃ ম্যাক অ্যাড্রেস পরিবর্তন, টিসিপি / আইপি পরিবর্তন, একটা ডায়ালার তৈরী।
  • ম্যাক আইডি পরিবর্তন করার জন্য উইন্ডোজ থেকে http://packages.ubuntu.com/ এ গিয়ে macchanger ডিপেন্ডেন্সী সহ ডাউনলোড করুন। ডিপেন্ডেন্সী হলঃ কোন কোন ক্ষেত্রে একটি ফাইল আরেকটার উপর নির্ভর করে, তখন একটা আরেকটার উপর ডিপেন্ড করে। তাই ওটাকে কাজ করাতে হলে দুইটা ফাইলই লাগে।
  • টিসিপি এড্রেস পরিবর্তন করা সহজ। উবুন্টু চালু করার পর উপরেই দেখবেন দুটো কম্পিউটারের ছবিসহ একটা আইকন আছে, সেখানে ডাবল ক্লিক করে কিছুক্ষণ ঘাটাঘাটি করলেই পেয়ে যাবেন! সেখান থেকে আপনার টিসিপি / আইপি চেঞ্জ করে নেন।
  • ডায়ালার তৈরীর জন্য pppoeconf কমান্ডটি ব্যবহার করতে হবে। টার্মিনালে (Applications >> Accessories >>Terminal) এ গিয়ে sudo pppoeconf লিখে এন্টার চাপুন, রুট পাসওয়ার্ড দিন। এরপর সে যা যা বলে সব ইয়েস ইয়েস করুন খালি ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড কিছু দিতে হবে না। ইউজারনেম ছাড়া যদি কাজ করতে রাজি না হয় তবে পছন্দমত কিছু একটা বসিয়ে দিন!
  • ব্যাস! এরপর ফায়ারফক্স চালু করে দেখুন নেট ব্রাউজ করতে পারেন কিনা। তবে ফায়ারফক্সের ফাইল মেনুর মধ্যে দেখে নিবেন, যদি Work Offline এ টিক চিহ্ন দেয়া থাকে, তাহলে কিন্তু হবে না।
  • সুত্রঃ আলোকিত

    উবুন্টুতে অডিও ও ভিডিও গান কিভাবে চালাবেন?

  • উবুন্টুতে বিল্টইন ভাবে সব অডিও সাপোর্ট নেই। যেই ফরমেট গুলো মুক্ত, সেগুলোই শুধু দেওয়া আছে। আপনি mp3 চালাতে চাইলে কোডেক ডাউনলোড করতে হবে। উবুন্টুর সব সফটয়ার একটি জায়গায় মজুদ করে রাখা আছে। যেটাকে বলা হয় রিপোজারেটরী। সেখান থেকেই এটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। যদি আপনার কাছে রিপোজারেটরী সিডি বা ডিভিডি থাকে, তাহলেও হবে।
  • অথবা, গান চালানোর সময় কোডেক ইনস্টল করতে বলে। সেটা ইনস্টল করলেই গান চলবে। আর সব কোডেক একসাথে ইনস্টল করতে চাইলে Synaptic (System >> Administration >> Synaptic Package Manager) থেকে ubuntu-restricted-extras বাছাই করে ইনস্টল করুন।
  • কম্পিউটার বুটের সময় উইন্ডোজকে কিভাবে ডিফল্ট করবেন?

  • এই জন্যে আপনাকে Startup Manager ইন্সটল করতে হবে।
  • System >> Administration >> Synaptic Package Manager এ যান। পাসওয়ার্ড চাইলে পাসওয়ার্ড দিন। এখানে সার্চ করার জন্য দূরবীনের একটা আইকন আছে। ওখানে ক্লিক করে startup manager লিখে সার্চ দিন। তারপর startup manager এ মার্ক করে ওকে করুন। ফলে এটি ডাউনলোড হয়ে ইন্সটল হয়ে যাবে।
  • এখন এক্সপি কে ডিফল্ট করতে হলে System >> Administration >> StartUp-Manager এ গিয়ে Boot options ট্যাবে Default operating system হিসেবে আপনার পছন্দেরটি সিলেক্ট করুন
  • সুত্রঃ শামীম

    রিস্টার্ট করলে ডেক্সটপ ওয়ালপেপার নতুন করে সেট করতে হয়?

    আপনার ড্রাইভ (NTFS) যদি সঠিকভাবে মাউন্ট না করতে পারে, তাহলে এই সমস্যা হয়। সঠিকভাবে মাউন্ট করতে এইখানেই একটা পোস্ট দেওয়া আছে, খেয়াল করুন। আর আপনি সহজেই অন্যভাবে করতে পারেন। ওয়ালপ্যাপার home/user/pictures তে রাখুন। তারপর change desktop background এ গিয়ে add করুন।

    বাসায় ইন্টারনেট কানেকশন নাই এমন ব্যবহারকারীরা কিভাবে গান শুনতে বা অন্যান্য সফটওয়ার পাবে?

  • এইজন্যে আপনার রিপোজারেটরী সিডি বা ডিভিডি লাগবে। এটি হলে আপনি সহজেই এই কাজ করতে পারবেন।
  • অথবা, যার পিসিতে উবুন্টু ইন্সটল করা আছে এবং মাল্টিমিডিয়া সাপোর্ট আছে সেখান থেকেও নিতে পারেন। এই জন্যে আপনাকে Apton CD ব্যবহার করতে হবে। যার পিসিতে এইসব আছে। সেখানে Apton CD ইন্সটল করুন (http://aptoncd.sourceforge.net/index.html) অথবা রিপো খুঁজে দেখুন।
  • ইন্সটল হয়ে গেলে এটির মাধ্যমে আপনি আপনার ইন্সটল করা সব সফটওয়ার এর ব্যাক আপ নিতে পারবেন *.iso ফরমেটে। হয় সিডিতে রাইট অথবা পেনড্রাইভে নিয়ে পার করে নিন। সিডিতে রাইট করে নিলে এটিই হয়ে গেল আপনার রিপোজারেটরী সিডি।
  • এখন আপনার পিসিতে নিয়ে এবার Termial (Applications > Accessories > Terminal) এ গিয়ে লিখুন apt-get install (যদি সিডি হয়)। এখন সফটওয়ার গুলো সিলেক্ট করে ইন্সটল করে ফেলুন। আর যদি সিডি না হয়, তাহলে উইন্ডোজ থেকেই Aptoc CD ডাউনলোড করে নিয়ে আপনার পিসিতে ইন্সটল করে নিন। এবার Apton CD ইন্সটল করে রেস্টোর অপশন থেকে আপনার iso ইমেজ থেকে এক্সট্রাক্ট করে নিন।