উবুন্টুর মুশকিল আসানঃ উবুন্টুর সব ঝামেলার বাংলা সমাধান

প্রথমেই একটা কথা বলে নেই, এই লেখাটা একইসাথে বিজ্ঞাপনধর্মী এবং আবেদনধর্মী। আপনি যদি বিজ্ঞাপনকে অতিশয় ঘৃণা করেন তবে আমরা দুঃখিত এই বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য, তারপরও অনুরোধ করবো সামান্য সময় নষ্ট করে একটু কষ্ট করে পড়ুন। আর যদি বিজ্ঞাপনের ফ্যান হন তাহলেও আমরা দুঃখিত, কারন এইটা আমাদের লেখা জীবনের প্রথম বিজ্ঞাপন (জীবনের প্রথম আবিষ্কারে বিজ্ঞানী এডিসনও হোঁচট খেয়েছেন, আর আমরাতো গোনাতেই পড়িনা), তাই এই লেখায় আহামরি কিছু পাবেননা, তারপরও একই অনুরোধ করবো যে সামান্য সময় নষ্ট করে একটু কষ্ট করে পড়ুন। এখন আসুন কেন আমরা একে বিজ্ঞাপনধর্মী এবং আবেদনধর্মী বললাম। এই লেখাটা বিজ্ঞাপনধর্মী তাদের জন্য যারা “উবুন্টু” শব্দটার সাথে পরিচিত না। আর “আবেদনধর্মী” তাদের জন্য যারা “উবুন্টু ব্যবহারকারি”। আপনি যদি প্রথমভাগে পড়েন অর্থাৎ যদি আপনি একজন উবুন্টু ইউজার হন তবে ইচ্ছা করলে এই লেখাটার প্রথমভাগকে উপেক্ষা করে সরাসরি দ্বিতীয়ভাগে যেতে পারেন, তবে না যেতেই পরামর্শ দেব। আর যদি দ্বিতীয় ভাগে পড়েন অর্থাৎ উবুন্টু কি তা জানেননা তবে প্রথম ভাগটা অবশ্যই পড়বেন কিন্তু।

প্রথম ভাগঃ
উবুন্টু হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা লিনাক্স ডিস্ট্র। লিনাক্স নিয়ে আমাদের সবারই একটা ভুল ধারনা যে এটি অতি কঠিন জিনিস। অস্বীকার করবনা, এককালে এটা অপারেট করা আমার আপনার মত সাধারন মানুষের কম্ম ছিলনা, কিন্তু এখন দিন পাল্টেছে। লিনাক্সকে ভিত্তি করে গড়ে উঠা উবুন্টু নামের এই অপারেটিং সিস্টেমটি লিনাক্সের কঠিন ভাবমূর্তিকে একেবারে দূর করে দিয়ে সাধারনের ব্যবহারের উপযোগী করে ফেলেছে। এটি দিয়ে অফিসের (লেখালেখি, হিসেবনিকেশ, প্রেজেনটেশন) কাজ কর্ম, গান শোনা, ভিডিও দেখা, গেম খেলা, ইন্টারনেট ব্রাউজ করা, আঁকাআঁকি করা – সবই করতে পারবেন। বোনাস হিসেবে পাবেন ভাইরাস, স্পাইওয়ার, এডওয়ার ইত্যাদি হাবিজাবি মেজাজ খারাপ করা জিনিস থেকে মুক্ত থাকার আনন্দ! সবচেয়ে বড় কথা হল, এই উবুন্টু একেবারে ফ্রি। এইবার একটু আঁতলামি কথাবার্তা, কিন্তু কথাবার্তাগুলো চিন্তার বিষয়। আমরা যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করি বাংলাদেশে সেগুলোকে ইংলিশে বলা হয় “পাইরেটেড সিডি” বা বাংলায় যেটাকে বলা হয় “চোরাই সিডি”। সোজা কথায় আমরা চুরি করা জিনিস ব্যবহার করছি। অন্যদিকে উবুন্টু হচ্ছে একদমই মাগনা এবং সেটা বৈধভাবেই। তাই এটা ব্যবহার করলে কেউ আমাকে চোরও বলবেনা। তাছাড়া উবুন্টু হচ্ছে লিনাক্সবেজড অপারেটিং সিস্টেম অর্থাৎ যে স্ট্যাবিলিটি আর পার্ফরম্যান্সের জন্য লিনাক্স আজ বিশ্বের সিংহভাগ সুপার কম্পিউটার আর সার্ভারে ব্যবহার করা হয় সেই স্ট্যাবিলিটি আর পার্ফরম্যান্সকে পাচ্ছেন আপনার ডেস্কটপে। সত্যিকারের এক অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে উবুন্টু।

এই উবুন্টুকে নিয়েই আমরা একটা ব্লগ খুলেছি, যেখানে বাংলায় উবুন্টু নিয়ে সবরকম কথা বার্তা হবে। ব্লগটির নাম উবুন্টুর মুশকিল আসান। তাই আপনি যদি উবুন্টুর জগতে নতুন হন বা উবুন্টুর জগতে যোগ দিতে চান তবে অবশ্যই একটু ঘুরে যান ব্লগটি থেকে।

দ্বিতীয় ভাগঃ

আপনি যদি উবুন্টু ব্যবহারকারি হন তবে উবুন্টুর মুশকিল আসান ব্লগটিতে আপনাকে স্বাগতম জানাই। বাংলাদেশের বেশিরভাগ উবুন্টু ব্যবহারকারিই কিন্তু উইন্ডোজ থেকেই আসে। তাই নতুন একটা সিস্টেমে এসে সমস্যায় পড়াটাই স্বাভাবিক। একজন উইন্ডোজ ব্যবহারকারি যেমন তার আশপাশে অনেক উইন্ডোজ ব্যবহারকারি পায় যে কোন সমস্যা সমাধান করার জন্য, উবুন্টুর ক্ষেত্রে চিত্রটা সেরকম না। যদিও ইদানিং উবুন্টু ইউজার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে তারপরও উইণ্ডোজ ব্যবহারকারিদের মত অলিতে গলিতে পাওয়া যায়না। তাছাড়া উইন্ডোজের সবসমস্যার সমাধান হিসেবে সর্বাধিক প্রচলিত পন্থা হচ্ছে উইন্ডোজ রিইন্সটলেশন। আমরা এ পদ্ধতিকে একেবারে নিরুৎসাহিত করি, কারন এটা কোন সমাধান না। মাথা ব্যাথা করলে মাথা কেটে নতুন মাথা লাগানোটা কি কোন সমাধান হয়? হয়না। তাই আমরা চাইনা উবুন্টুর কমিউনিটিও এভাবে গড়ে উঠুক। তাছাড়া সবাই যে সব কিছু জানে সেটাও তো হবার নয়। হয়তো আপনি এমন সব টিপস জানেন যেটা আবার আরেক জন জানেননা বা উল্টোটাও হতে পারে। তো সেইসব টিপস-এন্ড-ট্রিক্স জানা বা জানানোর জন্য তো একটা জায়গা দরকার। আর তার উপর সেই জায়গাটার সব যদি হয় বাংলায় তাহলে তো কথাই নাই। তাই বাংলা ভাষাভাষী সব উবুন্টু ব্যবহারকারিদের কথা মাথায় রেখেই আমরা উবুন্টু বিষয়ক একটা কমন ব্লগ করেছি।

আপনি ইচ্ছে করলেই যেকোন সমস্যার সমাধান বা উবুন্টু সম্পর্কিত বিভিন্ন লেখা লিখে এই ব্লগে অবদান রাখতে পারেন। বিস্তারিত পাবেনএখানে। হতে পারে লেখাটি আগে বিভিন্ন ফোরামে অথবা সাইটে প্রকাশিত হয়েছে, অথবা হতে পারে আপনার স্বকীয় কোন লেখনী। যেটাই হোক, আপনি তথ্যসূত্র উল্লেখ করে উবুন্টু/লিনাক্স সম্পর্কিত যেকোন লেখা এখানে প্রকাশ করতে পারেন। এতে করে সাধারণ অনেক উবুন্টু ব্যবহারকারিরাই উপকৃত হবে।

তাহলে আর কথা বাড়াচ্ছিনা। ব্লগটার একটা ফাইনাল এ্যাড দিয়ে শেষ করছি এই লেখাটা। উবুন্টুর মুশকিল আসান ব্লগে আপনার সাথে দেখা হচ্ছে তাহলে!

ফাইনাল এ্যাডঃ
আপনি উবুন্টুকে জানতে চান?
উবুন্টুতে আসতে চাচ্ছেন কিন্তু ভয়ে আসতে পারছেন না?
আপনি উবুন্টুতে সমস্যায় পড়েছেন?
আপনার উবুন্টু সম্পর্কিত জ্ঞান কারো সাথে শেয়ার করতে পারছেন না?
তাহলে আপনার জন্যই রয়েছে “উবুন্টুর মুশকিল আসান”।
এটি সম্পুর্ন রঙ্গীন এবং বাংলা ভাষায় ইউনিকোড সমর্থিত উবুন্টু বিষয়ক ব্লগ!
আপনি আসুন। আপনার বন্ধুদেরও আসতে বলুন।

লিখেছেনঃ অভ্রনীল

উবুন্টু লিনাক্স সম্বন্ধে পোস্ট সমূহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

উবুন্টু লিনাক্স সম্বন্ধে সব লেখা প্রজন্ম ফোরামআমাদের প্রযুক্তি ফোরামে প্রকাশিত। এই লেখাগুলো লেখা হয়েছে বিভিন্ন জনের সমস্যা ও তার সমাধানের পরিপ্রেক্ষিতে। এই সমাধান গুলো দিয়ে আমাদের সবাইকে সহযোগিতা করেছেন স্বপ্নচারী (নাসিম ভাই), আলোকিত, শামীম ভাই, উন্মাতাল তারুণ্য, আশাবাদী, আহমাদ মুজতবা, তানিম, কারিগর, সহজ সহ আরো অনেকে। আমি শুধু সম্পাদনার দ্বায়িত্ব পালন করেছি। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যদি আপনাদের আরো কিছু জানা বা জানার থাকে তাহলে জানাতে ভুলবেন না। যদি এই সব সম্বন্ধে আরও আলোচনা জানতে চান, তাহলে প্রজন্ম ফোরাম এর ওপেন সোর্স ও বাংলা কম্পিউটিং এবং আমাদের প্রযুক্তি ফোরামের লিনাক্স সাব ফোরাম পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। সবাইকে ধন্যবাদ

লিনাক্স কি?

লিনাক্স একটি শক্তিশালী ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম। ওপেন সোর্স বলতে বোঝায়, এটার সোর্স কোড উন্মুক্ত। আপনিও এটার বিভিন্ন ফিচার পরিবর্তন করতে পারেন। ১৯৯১ সালের দিকে লিনাক্সের সাথে আমাদের পরিচিত করেন লিনাস টরভেল্টস নামে এক প্রোগ্রামার। লিনাক্স মূলত তৈরী হয়েছে ইউনিক্স কার্নেল থেকে আপনার পিসি তে হার্ডওয়্যারের পর পর-ই যে জিনিসটি আপনাকে পিসি চালাতে সাহায্য করে সেটাই হলো অপারেটিং সিসটেম। । কার্নেল হল একটি অপারেটিং সিস্টেমের প্রাণ। আপনি উইনডোজে যেই “Welcome Screen” দেখেন সেটার পিছনের কাজ কর্ম গুলো অনেক জটিল; আর, সেই জটিল কাজ কর্মগুলোর ভিত্তি হলো , কার্ণেল।

লিনাক্স কেন ব্যবহার করবেন?

  • লিনাক্স একটি ফ্রি অপারেটিং সিস্টেম। এটি ব্যবহার করার জন্য আপনাকে এটি পয়সা দিয়ে কিনতে হবে না, যেটি করতে হয় উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করার জন্য। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এখানে যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করা হয় সেগুলোও বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সুতরাং এটি ব্যবহার করলে আমাদের সফটওয়ার পাইরেসি করতে হয় না।
  • লিনাক্স এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম যেটি তৈরী হয়েছে সারা বিশ্বের বাঘা বাঘা প্রোগ্রামারদের দ্বারা, যারা কোন টাকা ছাড়াই এগুলো তৈরী করছেন। লিনাক্সের জন্য কিছু স্বেচ্ছাসেবক টিম আছে, তাদের দ্বারাই এসব কাজ সম্পাদিত হচ্ছে। যেহেতু এটি তৈরী হচ্ছে অনেকগুলো কমিউনিটির সমন্বয়ে, তাই এখানে সফটওয়ারের দূর্বল স্থান কম। তাই, এসব সফটওয়ারে বাগ প্রায় নেই বললেও চলে। পক্ষান্তরে, উইন্ডোজে বাগের পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে সহজেই ভাইরাস এসব দূর্বল স্থানে হামলা করে, আর আমরা ভাইরাস অ্যাটাকে পড়ি। আমাদের সিস্টেম পড়ে যায় বিশাল সব ভাইরাসের মুখে। তাই লিনাক্সে ভাইরাসের অস্তিত্ব নেই বললেও চলে।
  • এটি হচ্ছে ওপেন সোর্স। আপনি যদি একজন প্রোগ্রামার হন, তবে চাইলে এখানে আপনার পছন্দমত ফিচার যোগ-বিয়োগ করতে পারেন এবং লিনাক্স অত্যন্ত শক্তিশালী।
  • অনেকেই মনে করেন, লিনাক্সে শুধুই কমান্ড দিয়ে কাজ করতে হয়। হ্যাঁ একথাও সত্যি। তবে উবুন্টু আসার ফলে এ ধারনারও পরিবর্তন ঘটেছে। আপনি উবুন্টুতে উইন্ডোজের মত করেই কাজ করতে পারবেন। লেখালেখি করতে চান? আছে মাইক্রোসফট অফিসের বিকল্প ওপেন অফিস, এবি ওয়ার্ড, কে রাইট সহ ডজন খানেক ওয়ার্ড প্রসেসর। ডাটাবেস দরকার? ডাউনলোড আর ইন্সটল করে ফেলুন মাইএস কিউ এল, পোস্ট গ্রে এস কিউ এল সহ অনেক কিছু। গ্রাফিক্সের কাজ করতে চান? আছে ফটোশপের বিকল্প মুক্ত সফটওয়ার গিম্প। এই রকমভাবে একটির বিকল্প অনেকগুলো করে অপশন আছে আপনার কাছে। তাই কোন চিন্তা নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি।
  • কোন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান চালাতে চান? তাহলে লিনাক্স আপনার জন্য বেস্ট। আপনাকে লাখ লাখ টাকা খরচ করে উইন্ডোজ কিনতে হবে না। লিনাক্স ব্যবহার করুন একদম ফ্রি।
  • সফটওয়্যার ইন্সটল করে কিভাবে?

  • System > Administration > Synaptic Package Manager এ গিয়ে পছন্দমত ইন্সটল করুন। উবুন্টুতে এ্যাড/রিমুভ বা সিনাপ্টিক দিয়ে কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করতে চাইলে প্রথমেই একটি সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ থাকতে হবে। উবুন্টুতে কিভাবে ইন্টারনেট সংযুক্ত করতে হয় সেটি নির্ভর করে আপনার ইন্টারনেট সংযোগের ধরণের ওপর (ডিএসএল/ডায়ালআপ/পিপিপিওই ইত্যাদি)।
  • .deb প্যাকেজ থেকে: .deb হল ডেবিয়ান আর্কাইভ, এবং উবুন্টু সহ সকল ডেবিয়ান নির্ভর ডিস্ট্রো এই প্যাকেজ ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে। ডেবিয়ান প্যাকেজ ইন্সটলেশনের জন্য সকল ডেবিয়ান নির্ভর লিনাক্স ডিস্ট্রোতে dpkg কম্পাইলার ডিফল্টভাবে দেয়া থাকে। উবুন্টুতে .deb প্যাকেজ ডাবল ক্লিক করেই ইন্সটল করতে পারবেন। উইন্ডোজের .exe-এর মত।
  • উবুন্টু রিপোজিটরি ডিভিডি থেকে: উবুন্টুর কোন সংস্করণ রিলিজের সাথে সাথেই তার কিছু রিপোজিটরি ডিভিডি পাওয়া যায় যেগুলোতে লিনাক্সের জনপ্রিয় প্রচুর সফটওয়্যার প্যাকেজ ও টুল জমা থাকে। ডিভিডিগুলো কম্পিউটারে প্রবেশ করালেই উবুন্টু স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোজিটরি সনাক্ত করে এবং সিনাপ্টিকে রিপোজিটরি ডিভিডির প্যাকেজগুলো প্রদর্শন করে। এরপর সেখান থেকে ইচ্ছামত প্যাকেজ নির্বাচন করে ইন্সটল করে নিতে পারবেন।
  • সোর্সকোড কম্পাইল করে: লিনাক্সের জন্য তৈরি সকল সফটওয়্যারই উবুন্টু লিনাক্সে চালানো সম্ভব, কিন্তু সকল সফটওয়্যারের ডেবিয়ান/.deb প্যাকেজ তৈরি থাকেনা। .deb প্যাকেজ নেই এমন কোন সফটওয়্যার চালাতে চাইলে সেটি সোর্সকোড থেকে কোন কম্পাইলারের সাহায্যে কম্পাইল করে নিতে হয়। লিনাক্স বা প্রোগ্রামিং এ কিছুটা অভিজ্ঞতা না থাকলে সোর্স কোড কম্পাইল করে সফটওয়্যার ইন্সটল করা কষ্টকর, তাই এ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এড়িয়ে যাচ্ছি।
  • সুত্রঃ আলোকিত

    উবুন্টুর কিছু মৌলিক ধারনা

  • লিনাক্সের ফাইলসিস্টেমে ড্রাইভ বলতে কিছু নেই। এখানে ফোল্ডার, ফাইল, ডিভাইস সবকিছু একটা ট্রি-র নিচে থাকে। সেই গাছের গোড়া হচ্ছে / (slash)। এখান থেকেই বিভিন্ন ফোল্ডার, ফাইল, ডিভাইস, পার্টিশন প্রভৃতি মাউন্ট হয়। মাউন্ট মানে সোজা বাংলায় যুক্তকরণ। আর সোজা ইংরেজীতে এটাচ। এখান থেকে বিভিন্ন ফোল্ডার সাজানো থাকে। তার মধ্যে জানা প্রয়োজন কয়েকটা বিশেষ ফোল্ডার। সেগুলো হচ্ছে:
  • /bin এবং /sbin এগুলোতে লিনাক্সের মূল কমান্ডগুলো থাকে। যেগুলো সকল লিনাক্স ডিস্ট্রোতে তো একই, বরং অন্যান্য POSIX ওএসেও (যেমন: সোলারিস, বিএসডি, প্রভৃতি) একই।
  • /boot এখানে থাকে কম্পিউটার কীভাবে লিনাক্সকে বুট করবে সে সম্পর্কিত ফাইল/ফোল্ডার।
  • /dev এখানে থাকে ডিভাইস ফাইলসমূহ। মানে এটাকে হার্ডওয়্যার ড্রাইভার গুদামও বলা যায়।
  • /etc এখানে থাকে বিভিন্ন এপ্লিকেশনের কনফিগারেশন ফাইলসমূহ। এটাকে উইন্ডোজ রেজিস্ট্রির সাথে তুলনা করা যায়।
  • /home এটাই হচ্ছে ইউজারদের নিজস্ব এলাকা। প্রত্যেক ইউজারের আলাদা ফোল্ডার থাকবে এখানে সেই ইউজারের নামে। যখনই কোন ইউজার লগইন করে মেশিনে, শুধু এখানেই তার যা কিছু করার অধিকার থাকে। এর বাইরে কিছু করতে হলে হয় এডমিন হতে হবে, নয়তো এডমিনের পারমিশন লাগবে।
  • /lib এখানে থাকে সফটওয়্যার চালানোর জন্য বিভিন্ন লাইব্রেরি। এটাকে উইন্ডোজের ডিএলএল ফাইলের ভাণ্ডার বলা যেতে পারে।
  • /media উবুন্তুতে এক্সটার্নাল সকল ডিভাইস এই ফোল্ডারে মাউন্ট হয়। তবে হার্ডডিস্কে একাধিক পার্টিশন থাকলে সেগুলোও এখানে মাউন্ট হয়। সাধারণত ইনস্টলের সময় যদি পার্টিশনগুলো থাকে উবুন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলো এখানে মাউন্ট করে এবং Places ও ডেস্কটপে শর্টকাট আইকনও তৈরী করে। অন্যান্য প্লাগ এন প্লে ডিভাইস অটোমাউন্ট হয় এবং যথারীতি আইকন দেখায়।
  • /mnt এটা আগে /media র কাজ করত। অন্যান্য লিনাক্সে এখনও করে। তবে উবুন্তু এখানে কিছু করে না। /mnt -র চাইতে /media টা বেশি ভালো শোনা, তাই না?
  • /proc এখানে কিছু ডাইন্যামিক ফাইল থাকে। যা হার্ডওয়্যার সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে। প্রোগ্রামারদের জীবন সহজ করার জন্য এখানে বেশ সহজ কিছু ফাইল পাওয়া যায়। যা পড়তে গেলে ডাইন্যামিক্যালি হার্ডওয়্যার ডাটা দেখায়। যেমন – cat/proc/cpuinfo কমান্ডটা প্রসেসরের ইনফরমেশন দেখাবে।
  • /root লিনাক্সে একজন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ইউজার থাকে। এই মহামান্য ইউজারের নাম root। এই ইউজার এই কম্পিউটারের যেকোন রকম পরিবর্তন করতে সক্ষম। অর্থাৎ এই কম্পিউটার ধ্বংস করার ক্ষমতাও তার হাতে। সুতরাং উবুন্তুতে এই ইউজারকে অক্ষম করে রাখা হয়েছে। আর এই ফোল্ডারটা তার হোম ফোল্ডার, ঠিক যেমনটা অন্যান্য ইউজারদের জন্য /home/USERNAME
  • /sys নামেই বোঝা যাচ্ছে এটা সিস্টেম ফোল্ডার।
  • /tmp এখানে সকল প্রকার টেম্পোরারী ফাইল বা ক্যাশ থাকে।
  • /usr এখানে সকল এপ্লিকেশন থাকে। অনেকটা উইন্ডোজের প্রোগ্রাম ফাইলস ফোল্ডারের মত। তবে এখানে আরও অনেক কিছুই থাকে, যেমন প্রোগ্রামারদের জন্য সহায়তাকারী ফাইল, লাইব্রেরী প্রভৃতি। মজার ব্যাপার হলো লিনাক্সের সোর্স কোডও এই ডিরেক্টরিতে পাওয়া যাবে src ফোল্ডারের ভেতর। উইন্ডোজে এই সোর্স ফোল্ডারটা পাবেন মাইক্রোসফটের কোন অফিসের সিন্দুকের ভেতর।
  • /var এটাও অনেকটা ক্যাশের মত কাজ করে। তবে এখানে সার্ভারের পাবলিক ফোল্ডারও পাওয়া যায় www তে।
  • অতএব দেখাই যাচ্ছে, সাধারণ ব্যবহারের জন্য সব ফোল্ডার জানার কোনই প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক ব্যবহারকারী তার নিজের হোম ফোল্ডার নিয়ে ব্যস্ত থাকলেই চলবে। অন্য কোথাও নাক গলানোর প্রয়োজন নেই ।
  • সুত্রঃ স্বপ্নচারী