যাও পাখি বল তারে – কৃষ্ণ কলি (মনপুরা)

সোনারও পালঙ্ক ঘরে
লিখে রেখেছিলেম দ্বারে
যাও পাখি বল তারে
সে যেন ভোলেনা মোরে

সুখে থেকো ভালো থেকো
মনে রেখ এই আমারে
বুকের ভেতর নোনা ব্যাথা
চোখে আমার ঝরে কথা

এপার ওপার তোলপাড় একা
বুকের ভেতর নোনা ব্যাথা
চোখে আমার ঝরে কথা
এপার ওপার তোলপাড় একা

যাও পাখি বল তারে
সে যেন ভোলেনা মোরে
সুখে থেক ভালো থেকো
মনে রেখ এই আমারে

মেঘের উপর আকাশ ওড়ে
নদীর ওপার পাখির বাসা
মনের বন্ধু বড় আশা

যাও পাখি যা রে উড়ে
তারে কইয়ো আমার হয়ে
চোখ জ্বলে যায় দেখব তারে
মন চলে যায় অদূর দূরে

যাও পাখি বল তারে
সে যেন ভোলেনা মোরে
সুখে থেক ভালো থেক
মনে রেখ এই আমারে

নিথুয়া পাথারে – বাবু (মনপুরা)

নিথুয়া পাথারে, নেমেছি বন্ধুরে
ধর বন্ধু আমার কেহ নাই
ধর বন্ধু আমার কেহ নাই
তোল বন্ধু আমার কেহ নাই

চিকন ধুতি খানি পরিতে না জানি
না জানি বান্ধিতে কেশ
না জানি বান্ধিতে কেশ ।।

অল্প বয়সে পিরিতি করিয়া
হয়ে গেল জীবনের শেষ
হয়ে জীবনের শেষ ।।

প্রেমেরও মুরালী বাজাতে নাহি জানি
না পারি বান্ধিতে সুর।।

নিথুয়া পাথারে নেমেছি বন্ধুরে
ধর বন্ধু আমার কেহ না।।
তোল বন্ধু আমার কেহ নাই

নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক – (শচীন দেব বর্মন)

নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক
পায়েলখানি বাজে
মাদল বাজে সেই সংকেতে
শ্যামা মেয়ে নাচে
পাগলপারা চাঁদের আলো
নাচের তালে মেশে
নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক

চাঁদের আলোয় কালো কাকা
নাচের তালে দোলেরে আহা মরি
ঢলে ঢলে দোলে
যেন সাদা মেঘের কোলে
কালো তড়িৎ খেলেরে খেলে ঐ
কি কৌতুকে খেলে
ঝলক ভরা দামিন সে যে
ঝিলিক মারে হেসে

কালো মেয়ের চপল বুকে
সভ্রম নিঃশ্বাস নাচেরে তারই তালে
বুকের মালা নাচে
থরে থরে ঝুমকা জবা
কবরীতে রাজে রে রাজে ঐ
রঙে রঙে রাজে
শ্যামল বনভূমি শিহরে ঐ
শ্যামারো পরশে

মদির ভরা দুই নয়নে
নাচের তুফান জাগেরে বুঝি তাই
প্রেমের সারা জাগে
হঠাৎ ফেরি আঘাত হেনে
কালো নয়ন ডাকেরে মোরে ঐ
ইশারাতে ডাকে
ঘায়েল হয়ে ফিরি আমি ঐ
নয়নের তিয়াসে

নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক
পায়েলখানি বাজে
মাদল বাজে সেই সংকেতে
শ্যামা মেয়ে নাচে
পাগলপারা চাঁদের আলো
নাচের তালে মেশে
নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক

শুধু গান গেয়ে পরিচয় – সাবিনা ইয়াসমিন

শুধু গান গেয়ে পরিচয়,
শুধু গান গেয়ে পরিচয়।
চলার পথে ক্ষনিক দেখা
একি শুধু অভিনয়।

এই অবুঝ মনে কে যে ক্ষণে ক্ষণে
চুপি চুপি দোলা দেয়।
ওগো জোছনা তুমি বলোনা,
কেন যে উতলা এ হৃদয়।

জানি সাঁঝের বেলা ফেলে সকল খেলা
নীড়ে পাখি ফিরে যায়।
তবু আকাশে, গানের আভাসে
চলারো কাহিনী লেখা রয়।

পৃথিবীর যত সুখ – ন্যান্সি

পৃথিবীর যত সুখ, যত ভালবাসা
সবই যে তোমায় দেব, একটাই আশা
তুমি ভুলে যেও না আমাকে
আমি ভালবাসি তোমাকে।

ভাবিনি কখনো, এ হৃদয় রাঙানো
ভালবাসা দেবে তুমি
দুয়ারে দাঁড়িয়ে, দু’বাহু বাড়িয়ে
সুখেতে জড়াব আমি
সেই সুখেরই ভেলায়
ভেসে স্বপ্ন ডানা মেলব এসে
এক পলকে পৌঁছে যাব, রুপকথারই দেশে
তুমি ভুলে যেও না আমাকে
আমি ভালবাসি তোমাকে।।

রয়েছে এখনো এ বুকে লুকানো
রাত জাগা স্বপ্ন ঘুমিয়ে
মেঘেতে দাঁড়িয়ে, আকাশে হারিয়ে
যতনে রেখ গো তুমি
সেই মেঘেরই আঁচল এনে
আমায় তুমি নাও গো টেনে
রং-তুলিতে আঁকব ক্ষণ
রুপ কুমারের দেশে

তুমি ভুলে যেও না আমাকে
আমি ভালবাসি তোমাকে।।

আমি তোমাকেই বলে দেব – সঞ্জীব

আমি তোমাকেই বলে দেব
কি যে একা দীর্ঘ রাত, আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে

আমি তোমাকেই বলে দেব
সেই ভুলে ভরা গল্প, কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়

ছুঁয়ে কান্নার রং, ছুঁয়ে জোছনার ছাঁয়া ।।

আমি কাউকে বলিনি সে নাম
কেউ জানেনা, না জানে আড়াল
জানে কান্নার রং, জানে জোছনার ছাঁয়া ।।

তবে এই হোক তীরে জাগুক প্লাবন
দিন হোক লাবন্য হৃদয়ে শ্রাবণ
তুমি কান্নার রং, তুমি জোছনার ছাঁয়া ।।

আমি তোমাকেই বলে দেব
কি যে একা দীর্ঘ রাত, আমি হেঁটে গেছি বিরান পথে

আমি তোমাকেই বলে দেব
সেই ভুলে ভরা গল্প, কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়

ছুঁয়ে কান্নার রং, ছুঁয়ে জোছনার ছাঁয়া ।।

আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ – সঞ্জীব চৌধুরী

আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ
আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ
আমার চোখ গেল ধরেছে সুন্দর।।
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ
আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল চাঁদ

মেয়ে তুমি এভাবে তাকালে কেন ।।
এমন মেয়ে কি করে বানালে ঈশ্বর
বুঝিনা এমন মেয়ে কি করে বানালে ঈশ্বর
আমাকে…

শহরে এসেছে এক নতুন পাগল ।।
ধর তাকে ধরে ফেল এখনই সময়
বলি ধর তাকে ধরে ফেল এখনই সময়

পাগল রাগ করে চলে যাবে খুঁজেও পাবেনা
পাগল কষ্ট চেপে চলে যাবে ফিরেও আসবে না
মেয়ে আমাকে ফেরাও
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ…

কে আমাকে হাত ধরে নিয়ে এল তোমার উঠানে
আমি যে বসেই আছি খোল দরজা
বলি খোল দরজা

আমি রাগ করে চলে যাব ফিরেও আসব না
আমি কষ্ট চেপে চলে যাব খুঁজেও পাবেনা
মেয়ে আমাকে ফেরাও
আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল চাঁদ…

ভালবাসো আর নাইবা বাসে -তাওসিফ

ভালবাসো আর নাইবা বাসো স্বপ্ন তোমায় নিয়ে প্রতিদিন
একটু ভাবো আর নাইবা ভাবো গল্প তোমায় নিয়ে প্রতিদিন
তবে বন্ধু বল এ ভালবাসাকে কি কখনো মিথ্যে বলা যায়
এই শ্রাবণ বেলায় দেখ বৃষ্টি ঝরে যায়
এই শ্রাবণ তো জানিয়ে দিল এ তো কান্না শুধু বৃষ্টি নয়
তবে বন্ধু বল এ ভালবাসাকে কি কখনো মিথ্যে বলা যায়

এই মেঘলা আকাশ তাকিয়ে দেখ সূর্য লুকিয়ে রয়
সূর্য তো জানিয়ে দিল এতো কষ্ট অভিমান নয়।
তবে বন্ধু বল এ ভালবাসাকে কি কখনো মিথ্যে বলা যায়
ভালবাসো আর নাইবা বাসো …

বৃষ্টি ঝরে যায় দু’চোখে গোপনে -তাওসিফ

বৃষ্টি ঝরে যায় দু’চোখে গোপনে
সখি গো নিলানা খবর যতনে
আশায় আশায় বসে থাকি তোমার পথে
সখি গো নিলানা খবর মনেতে

তোমারও চোখে কি বৃষ্টি পড়ে টুপুর টুপুর
আমাকে মনে করে সারাটি বেলা
যত কথা ছিল মনে বলেছি তোমাকে আমি
ভুলে কি গেছ সব হৃদয়ের কথা

তোমারও চোখে কি দিন কাটে বছর হয়ে
হিম ঝড় বয়ে যায় সারাটি বেলা
যত মিনতি থাকে করেছি তোমাকে আমি
আসনি ফিরে আছি একা।

একদিন পাখি উড়ে – কিশোর কুমার

একদিন,পাখি উড়ে
একদিন,পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে
ফিরবে না সে তো আর কারও আকাশে ।।

বুকে যেন বাদলের ঐ,মেঘ জমে না
মন ভেঙে দিতে যেন আর,ঝড় আসে না
তারে ভেবে কারও চোখে যেন জল না আসে
কারও আকাশে..
একদিন,পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে
ফিরবে সে তো আর কারও আকাশে ।

উদাসীর বাঁশি আর কেন
কেউ তো শোনে না,কোনদিন কেউ তার কেন
মন তো বোঝে না
ঘর ছেড়ে কোন দিন যেন শেষে,পথে না বসে
পথে না বসে..
একদিন,পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে
ফিরবে সে তো আর কারও আকাশে ।।